বাগেরহাট শহরের উপকণ্ঠে সুন্দরঘোনা গ্রামে অবস্থিত ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের মধ্যযুগীয় ইসলামী স্থাপত্যের সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শনগুলোর একটি। পুরু দেয়াল, সারিবদ্ধ পাথরের স্তম্ভ, অসংখ্য খিলান ও গম্বুজের পুনরাবৃত্তি ভবনের ভেতরে এক গভীর ছন্দ তৈরি করেছে। মসজিদটি ইউনেস্কো ঘোষিত ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাটের অংশ।
ইতিহাস
পঞ্চদশ শতকে খান জাহান আলী দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলায় যে নগর ও জনপদ গড়ে তুলেছিলেন, ষাট গম্বুজ মসজিদ তার কেন্দ্রীয় স্থাপনাগুলোর একটি। ধারণা করা হয়, মসজিদটি শুধু নামাজের স্থান নয়, বৃহৎ সমাবেশ ও প্রশাসনিক কাজেও ব্যবহৃত হতো। নির্মাণে স্থানীয় ইটের সঙ্গে দূর অঞ্চল থেকে আনা পাথরের স্তম্ভ ব্যবহার করা হয়েছে। স্থাপত্যে সুলতানি বাংলার বাঁকানো কার্নিশ, পুরু দেয়াল ও নিম্ন গম্বুজের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট।
নাম ষাট গম্বুজ কেন
মসজিদের ছাদে প্রচলিত গণনায় ষাটের বেশি গম্বুজ রয়েছে। নামের উৎস নিয়ে কয়েকটি ব্যাখ্যা প্রচলিত—কেউ গম্বুজের সারি, কেউ পাথরের স্তম্ভ বা স্থানীয় উচ্চারণের সঙ্গে নামটির সম্পর্ক দেখান। নিশ্চিত ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও ‘ষাট গম্বুজ’ নামটিই ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। ভ্রমণের সময় সংখ্যার বিতর্কে আটকে না থেকে স্থাপত্যের সামগ্রিক পরিকল্পনা লক্ষ্য করাই বেশি মূল্যবান।
স্থাপত্যে কী দেখবেন
- দীর্ঘ আয়তাকার প্রার্থনাকক্ষ ও বহু খিলানযুক্ত প্রবেশপথ
- সারিবদ্ধ পাথরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জ্যামিতিক বিন্যাস
- পশ্চিম দেয়ালের একাধিক মিহরাব ও অলংকরণ
- চার কোণের গোলাকার বুরুজ
- মসজিদের বিশাল প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন দিঘি
- বাগেরহাট জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রত্ননিদর্শন
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি বাগেরহাট যাওয়া যায়। ট্রেনে খুলনা পৌঁছে বাস, সিএনজি বা রিজার্ভ গাড়িতে বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদে যাওয়া সম্ভব। বাগেরহাট শহর থেকে খুলনা–বাগেরহাট মহাসড়ক ধরে স্থানীয় যানবাহনে অল্প সময় লাগে। বাস ও ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া এবং রাস্তার বর্তমান অবস্থা আগে যাচাই করুন।
প্রবেশ ও সেরা সময়
প্রত্নপ্রাঙ্গণ ও জাদুঘরের প্রবেশমূল্য, খোলা থাকার সময় এবং সাপ্তাহিক ছুটি পরিবর্তিত হতে পারে। শুক্রবার নামাজের সময় দর্শনার্থীর চলাচলে আলাদা নিয়ম থাকতে পারে। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত আবহাওয়া আরামদায়ক। ভোর বা বিকেলের আলোয় ইটের দেয়াল ও গম্বুজের ছায়া সুন্দর ফুটে ওঠে। জাদুঘর দেখতে পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখুন।
থাকা ও খাওয়া
বাগেরহাট শহরে সাধারণ ও মাঝারি মানের হোটেল এবং খাবারের দোকান রয়েছে। বেশি বিকল্প চাইলে খুলনা শহরে থাকা যায় এবং সেখান থেকে দিনের সফর করা সম্ভব। ছুটির মৌসুমে কক্ষ আগে বুক করুন এবং অনলাইনে পাওয়া পুরোনো মূল্য যাচাই না করে চূড়ান্ত করবেন না।
কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান
একই ঐতিহাসিক নগরীর অংশ হিসেবে খান জাহান আলীর মাজার, ঠাকুরদিঘি, নয় গম্বুজ মসজিদ, সিঙ্গাইর মসজিদ ও বাগেরহাট জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারেন। সবগুলো স্থান ভালোভাবে দেখতে স্থানীয় গাড়ি নিয়ে অর্ধদিন বা পূর্ণদিনের পরিকল্পনা উপযোগী।
ভ্রমণ শিষ্টাচার
- এটি সক্রিয় উপাসনালয়; নামাজের সময় নীরবতা ও শালীনতা বজায় রাখুন।
- জুতা নির্ধারিত স্থানে রাখুন এবং উপযুক্ত পোশাক পরুন।
- মিহরাব, স্তম্ভ বা পুরোনো দেয়াল স্পর্শ ও ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না।
- অনুমতি ছাড়া ড্রোন বা বাণিজ্যিক শুটিং করবেন না।
- প্রাঙ্গণ ও দিঘিতে আবর্জনা ফেলবেন না।
ষাট গম্বুজ মসজিদকে ভালোভাবে দেখতে ভেতরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে স্তম্ভ ও খিলানের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করুন। আলো যখন এক খিলান থেকে অন্য খিলানে পড়ে, তখন এই স্থাপত্যের ব্যাপ্তি ও মধ্যযুগীয় নির্মাতাদের দক্ষতা সবচেয়ে গভীরভাবে অনুভব করা যায়।
পোস্ট সর্বশেষ হালনাগাদ: 26 September 2026
আপনার তোলা ছবি জমা দিন
Google দিয়ে লগইন করলে ছবি জমা, পয়েন্ট ও নিজের তথ্য সব ডিভাইসে পাবেন।
তথ্য সহযোগী
স্থানীয় বা আগে ঘুরে আসা মানুষের কাছ থেকে তথ্য জেনে নিন। এটি গাইড বুকিং বা অর্থের বিনিময়ে সেবা নয়।
তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে চাই
Google দিয়ে লগইন করলে ছবি জমা, পয়েন্ট ও নিজের তথ্য সব ডিভাইসে পাবেন।
প্রশ্ন–উত্তর
একটি প্রশ্ন করুন
তথ্য বদলেছে? জানান
রিভিউ
এখনও কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউটি আপনিই দিন!