দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে কান্তনগর গ্রামে ঢেঁপা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের টেরাকোটা স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন—কান্তজিউ মন্দির। কান্তজীর মন্দির বা কান্তনগর মন্দির নামেও পরিচিত এই স্থাপনার প্রতিটি দেয়াল যেন পোড়ামাটির ফলকে লেখা একটি বিশাল গল্পের বই। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি শিল্প, স্থাপত্য ও ইতিহাসের জন্য এটি দিনাজপুর ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ।
মন্দিরের ইতিহাস
দিনাজপুরের রাজপরিবারের মহারাজা প্রাণনাথ মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন এবং তাঁর উত্তরসূরি মহারাজা রামনাথ আঠারো শতকে নির্মাণ সম্পন্ন করেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়। মন্দিরটি শ্রীকৃষ্ণ ও রুক্মিণীর প্রতি উৎসর্গিত। মূল স্থাপনায় একসময় নয়টি চূড়া ছিল বলে একে নবরত্ন মন্দিরও বলা হতো। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে চূড়াগুলো ধ্বংস হয়ে গেলেও মূল ভবন ও টেরাকোটার বিপুল অলংকরণ এখনো টিকে আছে।
টেরাকোটায় যে গল্প
মন্দিরের বাইরের দেয়ালজুড়ে রামায়ণ–মহাভারত, কৃষ্ণলীলা, রাজদরবার, যুদ্ধ, শিকার, নৌযাত্রা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ক্ষুদ্র ফলকগুলোর পোশাক, বাদ্যযন্ত্র, যানবাহন ও সামাজিক দৃশ্য থেকে আঠারো শতকের বাংলার জীবন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। দূর থেকে পুরো স্থাপত্য দেখার পর কাছ থেকে ফলকগুলো পর্যবেক্ষণ করলে শিল্পের সূক্ষ্মতা ভালো বোঝা যায়।
কী দেখবেন
- তিনতলা ইটনির্মিত মন্দিরের সমমিত কাঠামো
- দেয়ালজুড়ে হাজারো পোড়ামাটির ফলক
- খিলান, কার্নিশ ও অলংকৃত প্রবেশপথ
- মন্দির প্রাঙ্গণ ও রাসমেলার এলাকা
- কাছাকাছি নয়াবাদ মসজিদ ও ঢেঁপা নদীর পরিবেশ
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে দিনাজপুর শহরে পৌঁছে কান্তনগরের দিকে বাস, অটোরিকশা, সিএনজি বা রিজার্ভ গাড়ি নেওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে কান্তজিউ মন্দির অত্যন্ত পরিচিত। শহর থেকে যাওয়া-আসার গাড়ি আগে ঠিক করলে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ সহজ হয়। ট্রেন ও বাসের সময়সূচী এবং ভাড়া যাত্রার আগে যাচাই করুন।
কখন যাবেন
অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়া আরামদায়ক। সকাল ও বিকেলের আলোয় পোড়ামাটির ফলকের ছায়া ও খাঁজ ভালো দেখা যায়। বার্ষিক রাসমেলার সময় মন্দির এলাকায় বড় আয়োজন ও ভিড় হয়; উৎসব দেখতে চাইলে এই সময় উপযুক্ত, আর স্থাপত্য নিরিবিলি দেখতে চাইলে সাধারণ দিন বেছে নিন। পূজা ও মেলার তারিখ তিথিভেদে পরিবর্তিত হয়।
থাকা ও খাওয়া
মন্দিরের পাশে পর্যটক আবাসন সীমিত হওয়ায় দিনাজপুর শহরে থাকা সুবিধাজনক। শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। মন্দির এলাকায় সাধারণ খাবার পাওয়া গেলেও দিনের সফরে নিরাপদ পানি ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখুন।
ভ্রমণ শিষ্টাচার
- টেরাকোটার ফলকে হাত দেওয়া, ঘষা বা দেয়ালে হেলান দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- পূজা চলার সময় নীরবতা ও ধর্মীয় আচারের প্রতি সম্মান রাখুন।
- অনুমতি ছাড়া ড্রোন বা পেশাদার শুটিং করবেন না।
- প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং ফলকের খুব কাছে ফ্ল্যাশ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
কান্তজিউ মন্দিরের সৌন্দর্য এক নজরে শেষ হয় না। প্রতিটি ফলকের দিকে তাকালে নতুন চরিত্র ও নতুন দৃশ্য ধরা পড়ে—এই ধীর পর্যবেক্ষণই মন্দির ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
পোস্ট সর্বশেষ হালনাগাদ: 26 September 2026
আপনার তোলা ছবি জমা দিন
Google দিয়ে লগইন করলে ছবি জমা, পয়েন্ট ও নিজের তথ্য সব ডিভাইসে পাবেন।
তথ্য সহযোগী
স্থানীয় বা আগে ঘুরে আসা মানুষের কাছ থেকে তথ্য জেনে নিন। এটি গাইড বুকিং বা অর্থের বিনিময়ে সেবা নয়।
তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে চাই
Google দিয়ে লগইন করলে ছবি জমা, পয়েন্ট ও নিজের তথ্য সব ডিভাইসে পাবেন।
প্রশ্ন–উত্তর
একটি প্রশ্ন করুন
তথ্য বদলেছে? জানান
রিভিউ
এখনও কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউটি আপনিই দিন!