ঝালকাঠির রাজাপুর অঞ্চলের খালভরা জনপদে নৌকার ওপর বসে যে বাজার, তার নাম ভীমরুলি ভাসমান পেয়ারা বাজার। পেয়ারা মৌসুমে ভোর থেকে খালজুড়ে ছোট-বড় নৌকায় সবুজ ফলের স্তূপ, ক্রেতা–বিক্রেতার দরদাম এবং বাগান থেকে আসা কৃষকের ব্যস্ততা দেখা যায়। এটি সাজানো পর্যটন প্রদর্শনী নয়; দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ও নৌবাণিজ্যের একটি জীবন্ত বাজার।
বাজারের বৈশিষ্ট্য
ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বরিশালের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য পেয়ারা বাগান রয়েছে। খালনির্ভর এই অঞ্চলে কৃষকেরা নৌকায় পেয়ারা নিয়ে ভীমরুলির মোহনায় আসেন। পাইকাররা নৌকা থেকেই ফল কিনে অন্য বাজারে পাঠান। জলের ওপর নৌকার ভিড়, ফলের রং এবং মানুষের কাজ মিলিয়ে দৃশ্যটি অনন্য হলেও বাজারের মূল উদ্দেশ্য বেচাকেনা—তাই পর্যটকদের চলাচলে ব্যবসায়ীদের কাজে বাধা না দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
কখন বাজার জমে
সাধারণত বর্ষাকালের পেয়ারা মৌসুমে, বিশেষ করে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাজার সবচেয়ে প্রাণবন্ত থাকে। ফলনের সময় প্রতিবছর আবহাওয়ার ওপর কিছুটা এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কেনাবেচা বেশি হয়; দুপুরের পর নৌকা কমে যেতে পারে। যাত্রার আগে স্থানীয় মাঝি বা বাজারের পরিচিত কারও কাছ থেকে পেয়ারা ও বাজারের বর্তমান অবস্থা জেনে নিন।
কী দেখবেন
- পেয়ারাভর্তি কৃষকের ছোট নৌকা
- নৌকা থেকে নৌকায় পাইকারি কেনাবেচা
- আটঘর–কুড়িয়ানা অঞ্চলের পেয়ারা বাগান
- সরু খাল, ছায়াঘেরা জলপথ ও গ্রামীণ বাড়িঘর
- স্থানীয় ফল, মিষ্টি ও নদীকেন্দ্রিক জীবন
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাস বা লঞ্চে বরিশাল কিংবা বাসে ঝালকাঠি পৌঁছে ভীমরুলির দিকে যাওয়া যায়। বরিশাল থেকে বানারীপাড়া বা স্বরূপকাঠির পথে গিয়ে স্থানীয় ঘাট থেকে ট্রলার বা নৌকা ভাড়া করা জনপ্রিয় পদ্ধতি। ঝালকাঠি শহর থেকেও সড়ক ও নৌপথ মিলিয়ে পৌঁছানো যায়। পানি, ঘাট ও রাস্তার অবস্থা মৌসুমভেদে বদলায়, তাই স্থানীয় রুট নিশ্চিত করে রওনা হোন।
নৌকা ভাড়ার আগে
মাঝির সঙ্গে মোট সময়, কোন কোন বাজার ও বাগান দেখাবেন, ফেরার ঘাট এবং ভাড়া পরিষ্কার করে নিন। বড় দলের জন্য ছাউনি ও লাইফজ্যাকেটসহ উপযুক্ত ট্রলার বেছে নিন। অতিরিক্ত যাত্রী নেবেন না এবং বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকলে নিরাপদ আশ্রয়ের পরিকল্পনা রাখুন।
থাকা ও খাওয়া
ভীমরুলি এলাকায় পর্যটক আবাসন সীমিত। বরিশাল বা ঝালকাঠি শহরে থাকা বেশি সুবিধাজনক; স্বরূপকাঠি অঞ্চলেও সাধারণ মানের থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যেতে পারে। স্থানীয় বাজারে সাধারণ খাবার ও মিষ্টি পাওয়া যায়। নৌভ্রমণের জন্য নিরাপদ পানি ও শুকনা খাবার সঙ্গে রাখুন।
একদিনের পরিকল্পনা
খুব ভোরে বরিশাল বা ঝালকাঠি থেকে রওনা হয়ে সকালেই ভাসমান বাজার দেখুন। এরপর কুড়িয়ানা বা আটঘরের পেয়ারা বাগান ও খালপথ ঘুরে দুপুরে স্থানীয় বাজারে খাবার সেরে ফিরুন। রুট অনুকূলে থাকলে গুঠিয়া মসজিদ বা দুর্গাসাগর আলাদা সময় ধরে পরিকল্পনায় যোগ করা যায়।
দায়িত্বশীল ভ্রমণ
- কৃষকের নৌকা আটকে ছবি তুলবেন না বা অনুমতি ছাড়া নৌকায় উঠবেন না।
- ড্রোন ব্যবহারের আগে স্থানীয় প্রশাসন ও মানুষের অনুমতি নিন।
- ফল ধরবেন বা বাগানে প্রবেশ করবেন মালিকের অনুমতি নিয়ে।
- খাল ও নৌকায় প্লাস্টিক, বোতল বা খাবারের প্যাকেট ফেলবেন না।
- লাইফজ্যাকেট ব্যবহার করুন এবং শিশুদের নজরে রাখুন।
ভীমরুলির সৌন্দর্য বাজারের স্বাভাবিক ছন্দে। ভোরের আলোয় নৌকাভরা পেয়ারা এবং কৃষকের পরিশ্রম কাছ থেকে দেখলে দক্ষিণ বাংলার জলভূমির অর্থনীতি ও জীবনকে নতুনভাবে বোঝা যায়।
পোস্ট সর্বশেষ হালনাগাদ: 26 September 2026
আপনার তোলা ছবি জমা দিন
Google দিয়ে লগইন করলে ছবি জমা, পয়েন্ট ও নিজের তথ্য সব ডিভাইসে পাবেন।
তথ্য সহযোগী
স্থানীয় বা আগে ঘুরে আসা মানুষের কাছ থেকে তথ্য জেনে নিন। এটি গাইড বুকিং বা অর্থের বিনিময়ে সেবা নয়।
তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে চাই
Google দিয়ে লগইন করলে ছবি জমা, পয়েন্ট ও নিজের তথ্য সব ডিভাইসে পাবেন।
প্রশ্ন–উত্তর
একটি প্রশ্ন করুন
তথ্য বদলেছে? জানান
রিভিউ
এখনও কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউটি আপনিই দিন!