হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সিলেট অঞ্চলের চিরসবুজ ও আধা-চিরসবুজ বনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উঁচু-নিচু টিলা, বাঁশঝাড়, বুনো লতা, চা-বাগান এবং বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি ছড়া মিলিয়ে এখানে প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করা যায়। পাখি দেখা, বনপথে হাঁটা এবং জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণীয়।
নামের উৎস ও পরিচিতি
বনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সাতটি পাহাড়ি ছড়া থেকে সাতছড়ি নামটি এসেছে বলে প্রচলিত। এই বন বৃহত্তর রঘুনন্দন পাহাড়ের অংশ এবং ২০০৫ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষিত হয়। আয়তনে খুব বড় না হলেও উদ্যানটিতে নানা প্রজাতির গাছ, বাঁশ, অর্কিড, পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর বাস। উল্লুক, চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানর এবং বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতির কথা জানা যায়; তবে বনে ঢুকলেই প্রাণী দেখা নিশ্চিত নয়।
কী দেখবেন
- চিরসবুজ বনের ঘন ছায়া ও পাহাড়ি ছড়া
- নির্ধারিত স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘ ট্রেইল
- বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, প্রজাপতি ও বনজ উদ্ভিদ
- উদ্যানসংলগ্ন চা-বাগানের দৃশ্য
- স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও বননির্ভর সংস্কৃতির পরিচয়
ট্রেইল ভ্রমণ
উদ্যানে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের হাঁটার পথ রয়েছে। প্রথমবার গেলে স্থানীয় প্রশিক্ষিত গাইড সঙ্গে নেওয়া ভালো। গাইড শুধু পথ দেখান না, গাছপালা, পাখি ও প্রাণীর চিহ্ন চিনতেও সাহায্য করেন। বর্ষায় ট্রেইল কাদাযুক্ত ও পিচ্ছিল হয়; জোঁকের উপদ্রবও থাকতে পারে। বন্ধ জুতা, আরামদায়ক পোশাক, পানি এবং প্রয়োজনমতো লবণ বা জোঁক প্রতিরোধের ব্যবস্থা রাখুন।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সিলেটগামী বাসে মাধবপুরের পর তেলিয়াপাড়া বিশ্বরোড এলাকায় নেমে সিএনজি বা স্থানীয় গাড়িতে সাতছড়ি যাওয়া যায়। হবিগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ বা শ্রীমঙ্গল থেকেও রিজার্ভ গাড়িতে পৌঁছানো সম্ভব। দল নিয়ে গেলে যাওয়া-আসার গাড়ি আগে ঠিক করুন, কারণ ফেরার সময় সবসময় সহজে যানবাহন নাও পাওয়া যেতে পারে।
কখন যাবেন
অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত হাঁটার জন্য আবহাওয়া আরামদায়ক। বর্ষায় বন সবচেয়ে সবুজ এবং ছড়ায় পানি থাকে, তবে পিচ্ছিল পথ, জোঁক ও হঠাৎ বৃষ্টির প্রস্তুতি প্রয়োজন। পাখি ও বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনার জন্য সকাল ভালো। বনের ভেতরে সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ফিরে আসুন।
থাকা ও খাওয়া
জাতীয় উদ্যানের ভেতরে সাধারণ পর্যটকদের রাত কাটানোর ব্যবস্থা সীমিত। শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ বা শায়েস্তাগঞ্জে হোটেল ও রিসোর্ট বেছে নেওয়া যায়। উদ্যানের আশপাশে সাধারণ খাবারের দোকান থাকতে পারে, তবে পানি ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক। বনের মধ্যে খাবারের প্যাকেট বা প্লাস্টিক ফেলবেন না।
নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ভ্রমণ
- নির্ধারিত পথ ছেড়ে গভীর বনে প্রবেশ করবেন না।
- বন্যপ্রাণীকে খাবার দেওয়া, ডাকা বা তাড়া করা থেকে বিরত থাকুন।
- উচ্চস্বরে গান বাজাবেন না; এতে প্রাণী ও পাখি বিরক্ত হয়।
- গাছ, ফুল, অর্কিড বা বনজ উপাদান সংগ্রহ করবেন না।
- আগুন, সিগারেট এবং দাহ্য বস্তু ব্যবহারে কঠোর সতর্কতা রাখুন।
- প্রবেশমূল্য, গাইড ফি ও খোলা থাকার সময় যাওয়ার আগে যাচাই করুন।
সাতছড়িতে ভ্রমণের সৌন্দর্য দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর মধ্যে নয়; পাতার শব্দ, পাখির ডাক এবং আলো-ছায়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করতে করতে ধীরে হাঁটার মধ্যেই বনের প্রকৃত অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
পোস্ট সর্বশেষ হালনাগাদ: 26 September 2026
আপনার তোলা ছবি জমা দিন
Google দিয়ে লগইন করলে ছবি জমা, পয়েন্ট ও নিজের তথ্য সব ডিভাইসে পাবেন।
তথ্য সহযোগী
স্থানীয় বা আগে ঘুরে আসা মানুষের কাছ থেকে তথ্য জেনে নিন। এটি গাইড বুকিং বা অর্থের বিনিময়ে সেবা নয়।
তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে চাই
Google দিয়ে লগইন করলে ছবি জমা, পয়েন্ট ও নিজের তথ্য সব ডিভাইসে পাবেন।
প্রশ্ন–উত্তর
একটি প্রশ্ন করুন
তথ্য বদলেছে? জানান
রিভিউ
এখনও কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউটি আপনিই দিন!