লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্র: গারো পাহাড়, ওয়াচ টাওয়ার ও ভ্রমণ গাইড
গারো পাহাড়ের কোলে বেড়ে ওঠা ঘন সবুজের সমারোহে হঠাৎ দোলা দেয় হিমেল হাওয়া। শাল-গজারির বনের ফাঁক গলিয়ে সূর্যের নরম আলোর ঝিলিক নামে আসে টিলায় টিলায়। দূরের সীমান্তপথে ভেসে আসে হরেক পাখির ডাক। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ‘লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্র’ যেন এখন প্রকৃতির এক নিভৃত রাজ্য। পাহাড়, অরণ্য, লেক ও সীমান্তঘেঁষা জনপদের বৈচিত্র্য— সব মিলিয়ে লাউচাপড়া জামালপুর জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক গন্তব্য। জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অবসরকেন্দ্র প্রকৃতিপ্রেমী, পরিবার ও দলগত ভ্রমণকারীদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।
শহুরে মানুষদের প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ ঘটে বছরে খুব কম সময়ই। আর তাই ছুটির দিনগুলোকে একান্ত প্রকৃতির সাথে বিলিন করতে প্রকৃতি প্রেমিরা যেতে পারেন জামালপুরের লাউচাপড়া। ওয়াচ টাওয়ারের উপরে উঠে যত দূরে চোখ যায় শুধুই সবুজের বিস্তীর্ণ বিস্তার। থাকার জায়গাগুলো আটসাঁট হলেও মিলবে প্রকৃতির হিমেল ছোঁয়া। ছুটির দিনগুলো কেটে যাবে কাঠ ঠোকরা আর হলদে পাখির কলতানে।
প্রকৃতির নিপুণ হাতে সাজানো লাউচাপড়ার নৈসর্গিক সৌন্দর্য যে কাউকে আকৃষ্ট করবে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছবির মতো ছড়িয়ে ছোট-বড় টিলা। ফাঁকে ফাঁকে অজস্র ছোট-বড় ঝরনা, আদিবাসীদের পাহাড়ি গুচ্ছগ্রাম আর দিগন্তজোড়া ঘন সবুজ। ১৯৯৬ সালে ২৬ একর জায়গা নিয়ে লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রটি নির্মাণ করে জেলা পরিষদ। ১৫০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, বিশ্রামের জন্য রেস্টহাউস, দুটি কটেজ, গারো সম্প্রদায়ের আচিক মান্দি ভাস্কর্য ও পাহাড়ে আরোহণের জন্য সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক একটি লেকও আছে। সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঘন সবুজের সমারোহ নিয়ে সারি সারি টিলা।
লাউচাপড়ার পাহাড়ি এলাকায় হিংস্র কোনও প্রাণী নেই। তবে ধানী মৌসুমে সীমান্তের ওপারের গভীর পাহাড় থেকে নেমে আসতে পারে বন্য হাতির দল। এখানে আছে নানা জাতের পাখি। চোখে পড়বে কাঠ ঠোঁকরা, হলদে পাখি, কালিম পাখিসহ অসংখ্য পাখি।
ইতিহাস ও পরিচিতি
লাউচাপড়া অবকাশ কেন্দ্র (Lauchapra Picnic Spot), জামালপুর জেলা সদর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে বকশীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পিকনিক স্পট। বকশীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে পাকা রাস্তায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে এগোলেই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষে প্রায় ১০ হাজার একর জায়গা জুড়ে বিশাল পাহাড়ি এলাকা যার পুরোটাই গারো পাহাড়। আর এই গারো পাহাড়ের কোলেই গড়ে উঠেছে লাউচাপড়া অবকাশ কেন্দ্র।
প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু পাহাড়ের ওপর নির্মিত ওয়াচ টাওয়ার থেকে চারপাশের সবুজ পাহাড় ও বিস্তৃত প্রকৃতি দেখা যায়। শিশুদের জন্য কয়েকটি রাইড, বসার জায়গা এবং গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে সবুজের ঘনত্ব বাড়লেও বৃষ্টিতে পথ পিচ্ছিল হতে পারে।
কী দেখবেন
- পাহাড়চূড়ার ওয়াচ টাওয়ার ও চারপাশের দৃশ্য
- গারো পাহাড়ের সবুজ অরণ্য ও আঁকাবাঁকা পথ
- লেক ও পিকনিক এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ
- সীমান্তঘেঁষা এলাকার বৈচিত্র্যময় জনজীবন
কীভাবে যাবেন
লাউচাপড়া অবকাশ কেন্দ্র জামালপুর জেলার অধীনে হলেও যাওয়ার সহজপথ হলো শেরপুর হয়ে। ঢাকা থেকে সরাসরি শেরপুরে যায় বিভিন্ন পরিবহনের বাস। মহাখালি থেকে বাসে উঠে সরাসরি শেরপুর নামতে হবে। শেরপুর থেকে সিএনজি ও ইজিবাইকে শ্রীবর্দী কর্ণঝোড়া হয়ে যায় লাউচাপড়ায়। শেরপুর থেকে লাউচাপড়ার দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার।
ট্রেনে যেতে চাইলে, আপনাকে ঢাকা থেকে ট্রেনে জামালপুর জেলা শহরে যেতে হবে প্রথমে। সেখান থেকে সিএনজি বা অটোয় শেরপুর কিংবা বকশীগঞ্জ হয়ে লাউচাপড়ায় যাওয়া যায়।
সড়পথে জামালপুর থেকে যেতে চাইলে প্রথমে আপনাকে জামালপুর শহরের ব্রীজপাড় যেতে হবে আগে। সেখান থেকে বকশীগঞ্জ ও শেরপুরের প্রচুর পরিমানে ইজিবাইক ও সিএনজি পাওয়া যায়। শেরপুর গেলে আপনাকে আগে শ্রীবর্দী হয়ে কর্ণঝোড়া যেতে হবে আর বকশীগঞ্জ গেলে সেখান থেকে সরাসরি লাউচাপড়ায় যেতে পারবেন ইজিবাইক ও সিএনজিতে।
কোথায় থাকবেন
পর্যটকদের কথা ভেবে জামালপুর জেলা পরিষদ ১৯৯৬ সালে ২৬ একর জায়গা জুড়ে গারো পাহাড়ের চূড়ায় নির্মাণ করেছে পিকনিক স্পট ‘ক্ষণিকা’। এছাড়াও এখানে রাতে থাকার জন্য রয়েছে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো। ডাকবাংলোতে থাকতে গেলে আগে থেকে অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। যোগাযোগ করতে হবে-
প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, ফোন – ০৯৮১-৬২৭১৬, ০৯৮১-৬৩৫১৪, ০৯৮১-৬৩২৪০
এছাড়া ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল রিসোর্ট ‘বনফুল রিসোর্ট’। এখানে আপনি আধুনিক সব সুযোগ সুবিধাই পাবেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। এই রিসোর্টে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ছাড়াও রয়েছে সাধারণ কক্ষ। রিসোর্টে নিজস্ব বাবুর্চি দিয়ে রয়েছে রান্নার ব্যবস্থা।
ভ্রমণ পরামর্শ
- বর্ষায় পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল হতে পারে; ভালো গ্রিপের জুতা পরুন।
- সীমান্তঘেঁষা এলাকা হওয়ায় নিষিদ্ধ বা সংবেদনশীল স্থানে প্রবেশ করবেন না।
- স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন এবং প্লাস্টিক ফেলে আসবেন না।
পোস্ট সর্বশেষ হালনাগাদ: 24 September 2026
আপনার তোলা ছবি জমা দিন
Google দিয়ে লগইন করলে ছবি জমা, পয়েন্ট ও নিজের তথ্য সব ডিভাইসে পাবেন।
তথ্য সহযোগী
স্থানীয় বা আগে ঘুরে আসা মানুষের কাছ থেকে তথ্য জেনে নিন। এটি গাইড বুকিং বা অর্থের বিনিময়ে সেবা নয়।
তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে চাই
Google দিয়ে লগইন করলে ছবি জমা, পয়েন্ট ও নিজের তথ্য সব ডিভাইসে পাবেন।
প্রশ্ন–উত্তর
একটি প্রশ্ন করুন
তথ্য বদলেছে? জানান
রিভিউ
এখনও কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউটি আপনিই দিন!
